২১ বৈশাখ, ১৪৩৩
০৪ মে, ২০২৬

পানির নিচে ধান, কৃষকের হাহাকার

Admin Published: May 4, 2026, 5:48 pm
পানির নিচে ধান, কৃষকের হাহাকার

ডিএনএন ডেস্ক: টানা কালবৈশাখী ঝড়, বজ্রপাত, অতিবৃষ্টি এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে এশিয়ার বৃহত্তম হাওর হাকালুকি হাওরে বোরো ধান তলিয়ে গেছে। মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার হাওরপাড়ের ইউনিয়নগুলোতে এখন কৃষকদের ধান বাঁচানোর প্রাণপণ লড়াই চলছে।সরেজমিনে ভূকশিমইল, জয়চণ্ডী ও কাদিপুর ইউনিয়নে দেখা যায়, কৃষকেরা নৌকা ও কলাগাছের ভেলায় করে পানির নিচ থেকে আধাপাকা ধান সংগ্রহ করছেন।


শ্রমিক সংকট ও জ্বালানি তেলের অভাবে হারভেস্টার ব্যবহার করতে না পারায় সময়মতো ধান কাটা সম্ভব হয়নি। ফলে উচ্চ মজুরি দিয়েও ধান ঘরে তোলা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।


জয়চণ্ডী ইউনিয়নের মীরশংকর গ্রামের কৃষক মান্নান মিয়া ও রইছ আলী বলেন, এক সপ্তাহ আগে কাটা ধান এখনো স্তূপ করে রাখা। রোদ না থাকায় মাড়াই করা যাচ্ছে না। শ্রমিকের মজুরি অনেক বেশি, এক বিঘা জমির ধান তুলতেই ৬-৭ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে।


উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, কুলাউড়ায় এবার মোট ৮ হাজার ৭২০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে, যার মধ্যে হাওর এলাকায় ৪ হাজার ৮০৫ হেক্টর।


অতিবৃষ্টি ও ঢলে প্রায় ৩৮০ হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা প্রায় ৩ হাজার কৃষকের ওপর প্রভাব ফেলেছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি।


ভূকশিমইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান মনির জানান, তার ইউনিয়নের অর্ধেকের বেশি বোরো ধান ঢলের পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনের দাবি জানান।


হাওরপাড়ের প্রায় অর্ধশতাধিক গ্রাম এখন পানির সঙ্গে লড়াই করছে। এর মধ্যে রয়েছে মীরশংকর, কাদিপুর, সাদিপুর, কারবানপুর, মহেষগৌরী, মদনগৌরী, জাবদা, মুক্তাজিপুর, বড়দল, গড়করণ, ভূকশিমইলসহ আরও কয়েকটি এলাকা। এসব গ্রামের কৃষকদের একমাত্র ভরসা বোরো ধান যা এবার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় অনেক পরিবার খাদ্য সংকটের শঙ্কায় পড়েছে।


ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহিউদ্দিন এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন।


কৃষি কর্মকর্তা জানান, হাওর এলাকায় প্রায় ৮০ শতাংশ এবং গ্রামাঞ্চলে ৬৫ শতাংশ ধান কাটা শেষ হয়েছে। তিনি বলেন, সরকারিভাবে ১৪৪০ টাকা দরে বোরো সংগ্রহ শুরু হয়েছে। এবার লক্ষ্যমাত্রা ৮৩৫ টন, একজন কৃষক সর্বোচ্চ ৩ টন ধান বিক্রি করতে পারবেন।


কৃষকদের দাবি, আগাম বন্যা ও পাহাড়ি ঢল থেকে ফসল রক্ষায় স্থায়ী এবং কার্যকর বাঁধ নির্মাণ ছাড়া এ ধরনের ক্ষতি বারবার ঘটবে।