৩ বৈশাখ, ১৪৩৩
১৭ এপ্রিল, ২০২৬

রাজশাহীতে হামের চিকিৎসায় মেডিকেল বোর্ড গঠন

Admin Published: April 16, 2026, 11:08 pm
রাজশাহীতে হামের চিকিৎসায় মেডিকেল বোর্ড গঠন


স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে ৫১ শিশুর মৃত্যুর পর এই সংক্রামক রোগের চিকিৎসা জোরদারে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পি কে এম মাসুদ উল ইসলাম আট সদস্যবিশিষ্ট এই বোর্ড গঠন করেন।


আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, হাসপাতালে হাম রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। হাম-পরবর্তী জটিলতায় সংকটাপন্ন রোগীদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে এই মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ডের সদস্যরা প্রয়োজন অনুযায়ী সরেজমিনে উপস্থিত থেকে দায়িত্ব পালন করবেন।



মেডিকেল বোর্ডের সভাপতি করা হয়েছে হাসপাতালের শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. শাহিদা ইয়াসমিনকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক অধ্যাপক আজিজুল হক, নিউরো মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মনজুর এলাহী, রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. আহমদ যায়নুদ্দীন সানী, রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ভাইরোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. শারমিনা আফতাব, হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের ইউনিট প্রধান ডা. আবু হেনা মোস্তফা কামাল, মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের প্রধান ডা. মিজানুর রহমান এবং কার্ডিওলজি বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. রকিবুল হাসান রাসেদ।


হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস উত্তরভূমিকে জানান, এটি হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ একটি কার্যক্রম। রোগীদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন বিভাগের প্রধান ও বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে এ ধরনের বোর্ড গঠন করা হয়ে থাকে।



রাজশাহী অঞ্চলে গত মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে হাম রোগের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। শুরুতে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডেই অন্যান্য রোগীর সঙ্গে হামের উপসর্গ নিয়ে আসা শিশুদের চিকিৎসা চলছিল। তবে পরিস্থিতির অবনতি হলে মার্চের শেষ দিকে পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়।


হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে ৫১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ বুধবার সকাল থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন ১১ শিশু ভর্তি হয়েছে এবং সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছে ২৯ জন। সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত মোট ৬১৩ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে ১৪৫ জন।